• GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
Principal

প্রফেসর মোঃ আব্দুল বার্সেদ

অধ্যক্ষ, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ

শিক্ষা মানুষের জ্ঞান ও মননকে বিকশিত করে, নৈতিকতাকে দৃঢ় করে এবং একটি আলোকিত ও দায়িত্বশীল সমাজ বিনির্মাণের পথ তৈরি করে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাই শুধু জ্ঞানার্জনের স্থান নয়; এটি মানুষের চিন্তা, চেতনা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। ঐতিহ্যবাহী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুর দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা বিস্তার, জ্ঞানচর্চা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, গৌরবময় ইতিহাস এবং অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অবদান। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার ধরন, প্রযুক্তি ও সমাজের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হলেও একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য—জ্ঞান, মানবিকতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা—চিরকালই অটুট। আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে তারা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী নয়, বরং জ্ঞাননির্ভর, দক্ষ, সৃজনশীল, মানবিক, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সৃজনশীলতা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা কোনো একক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারি। সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ জ্ঞান ও মূল্যবোধের পথপ্রদর্শক। তাঁদের নিষ্ঠা, পেশাগত উৎকর্ষ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও গতিশীল রাখে। আর শিক্ষার্থীদের মেধা, শ্রম, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীলতাই প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের সবচেয়ে বড় পরিচয়। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয়, জ্ঞানের সঙ্গে নৈতিকতার সংযোগ এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ববোধের বিকাশ আমাদের শিক্ষা-চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের দীর্ঘদিনের অর্জন ও সুনামকে ধারণ করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে নতুন সম্ভাবনার দিকে। শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করা, একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমি প্রত্যাশা করি, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থী তার স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখবে। তারা নিজেদের যোগ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের গৌরবকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়; বরং ভালো মানুষ, দক্ষ পেশাজীবী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ জ্ঞানচর্চা, মানবিকতা, নৈতিকতা ও উৎকর্ষের এক আলোকিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার পথচলা অব্যাহত রাখবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আসুন, আমাদের সম্মিলিত জ্ঞান, মেধা, শ্রম ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলি।

অধ্যাপক মোঃ আব্দুল বাসেদ অধ্যক্ষ সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুর