• GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide
  • GAMC- Slide

আমাদের সম্পর্কে


জামালপুর ও শেরপুর জেলার উচ্চ শিক্ষার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ। আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৬ সালে পথচলা শুরু করলেও এর পেছনের ইতিহাস আরও পুরনো। ১৮৮৫ সালে জামালপুরে মহকুমা স্থাপনের পর এ এলাকায় ক্রমান্বয়ে জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। শহরের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারের জন্য শহরে একটি কলেজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা সকলেই উপলব্ধি করে। ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করে জামালপুরের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক আর সি দত্ত ও কিছু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি জামালপুর শহর অঞ্চলে একটি কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে ১৯৪০ সালে করোনেশন রিডিং ক্লাবে এক সভায় কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে একটি প্রাথমিক তহবিল গঠন করে। এছাড়াও অপর এক সভায় প্রত্যেক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টকে ২০০ টাকা করে চাঁদা ধরা হয়। শুধু তাই নয়, এতদঞ্চলের সাধারণ জনগণও কলেজ স্থাপনে এগিয়ে আসে এবং সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করে। ফলে কলেজ স্থাপনের প্রাথমিত তহবিল নিশ্চিত হয়। ১৯৪১ সালে ১০ই জুন প্রভিশনাল ওয়াকিং কমিটির সভায় সরকারি ইটখোলা (কৈয়ের বিল) নামক স্থানে কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ইটখোলা কলেজকে দান করার জন্য সরকারের নিকট দরখাস্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কারণে কলেজ স্থাপনের কাজ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ১৯৪৪ সালের ৮ ডিসেম্বর কলেজের সাংগঠনিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত সভায় কলেজের এফিলিয়েশন প্রাপ্তির জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দরখাস্ত প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৯/০৬/১৯৪৫ সালে ৩৮১৩/- টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমাদানের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে জামালপুর কলেজ ইটখোলার ৩১ একর সরকারি জমি দীর্ঘমেয়াদী ইজারা পায়। তৎকালে জামালপুর যে পাবলিক মেলা অনুষ্ঠিত হতো সেখান থেকে কলেজের জন্য ২০,০০০/- টাকা চাঁদা সংগ্রহ করা হয় এবং জেলা কমিটির দানের টাকা নিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। অতঃপর তৎকালীন জামালপুর মহকুমা এসডিও জনাব পনাউল্লাহ আহাম্মদের প্রচেষ্ঠায় মাদারগঞ্জের দানবীর আল্হাজ্ব আশেক মাহমুদ তালুকদার জামালপুরে কলেজ স্থাপনের জন্য ৪০,০০০/- টাকা দান করেন। এ কারণে ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে জামালপুর কলেজকে আশেক মাহমুদ কলেজ নামকরণ করা হয়। ১৯৪৬-১৯৪৭ শিক্ষাবর্ষে ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের যাত্রা শুরু হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব আজিমুদ্দিন আহমেদ। ক্রমান্বয়ে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি ও কলেজের সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার ১৯৭৯ সালে কলেজটিকে জাতীয়করণ করে। কলেজ জাতীয়করণ করার পর প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোঃ আলী আজম। বর্তমানে কলেজের অধ্যক্ষর দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী। ১৯৯২ সালে বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১ম অর্নাস কোর্স চালু করা হয়। ২০০১ অর্থনীতি ও গণিত বিষয়ে অর্নাস কোর্স চালু হয়। ২০০৫ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইংরেজি, দর্শন, ইসলামের ইতিহাস, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে এবং ২০০৭ সালে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে অর্নাস কোর্স চালু করা হয়। এছাড়া ১৯৯৫ সালে বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এবং ১৯৯৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। ২০১৫ সালে নতুনভাবে ৭টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে। কলেজের ৪টি সুবিশাল একাডেমিক ভবন, ৪টি হোস্টেল, ১টি অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম, মসজিদ, গ্রন্থাগার, ব্যামিণ্টন গ্রাউন্ড ইত্যাদি অন্যতম স্থাপনা। এছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসের সুবিশাল বাগান, খেলার মাঠ, বৃহৎ পুকুর ইত্যাদি কলেজের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় কলেছে।


af